বৃহস্পতিবার ৫ আশ্বিন, ১৪২৫ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বৃহস্পতিবার

আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: বেরাইদে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের এমপি একেএম রহমত উল্লাহর ভাগ্নে ফারুককে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের নামে মামলা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন। বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াজেদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই সংঘর্ষে কামরুজ্জামান দুখু নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের ভাই। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দু’গ্র“পের মধ্যে ঝামেলা চলছে। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে গেলেই উপর থেকে চাপ আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেরাইদে ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্র“পের সংঘর্ষ ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ সোমবার ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এমপি রহমত উল­াহর ভাগ্নে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা প্রতিরোধ করতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এতে কামরুজ্জামান দুখু নামে একজন নিহত হন। আহত হন এক বিদেশিসহ আটজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেরাইদ এলাকার একক নিয়ন্ত্রণে ছিলেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবার। একেএম রহমত উল­াহ এমপি হলেও ‘বেরাইদ চলত’ চেয়ারম্যানের কথায়। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল জমি কেনাবেচা, ঠিকাদারিসহ অন্য ব্যবসা। তার দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য মেনে নিতে পারছিলেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এমপির সমর্থকরা। তারা চেয়েছিলেন সবাই মিলে ব্যবসা করতে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ভাগাভাগি নিয়ে এমপির সমর্থকরা জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের কাছে গেলেও কোনো লাভ হয়নি।

সর্বশেষ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন বন্ধে রিট করেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর। এই রিটকে কেন্দ্র করেও এ দু’গ্র“পের মধ্যে ঝামেলা বাড়তে থাকে। কারণ এমপি চেয়েছিলেন তার ছেলে কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর রিট করে নির্বাচন বন্ধ করায় এমপি ও তার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হন।

মামলার বাদী চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বলেন, আমার ভাইকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছি। আমি চাই অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। তিনি আরও বলেন, মিডিয়া লিখেছে দু’পক্ষের গোলাগুলি হয়েছে, কিন্তু এ তথ্য সত্য নয়। এ ঘটনায় আমার এক ভাই নিহত হয়েছে। অপর ভাই গুরুতর আহত। আমার গ্র“পের আরও ১০ জন গুলিবিদ্ধ। অথচ তাদের পক্ষের একজনও গুলিবিদ্ধ হয়নি। তাহলে এটা গোলাগুলি কিভাবে হল? এ প্রসঙ্গে এমপি একেএম রহমত উল­াহ বলেন, এ হামলার সঙ্গে আমার লোকজন জড়িত নয়। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা ন্যায়বিচার পাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: আইন-আদালত

Leave A Reply

Your email address will not be published.