শুক্রবার ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

বাড্ডায় আ. লীগের দু’পক্ষে গোলাগুলিতে নিহত ১

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে রাজধানীর বাড্ডা থানার বেরাইদে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া এলাকাটিতে রোববার বিকালে এই গোলাগুলি হয়।

বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় সাংসদ রহমতউল্লাহ পক্ষের লোকজনের গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছে। ওসি জানান, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহত কামরুজ্জামান দুখুকে নিজের ভাই বলে জানিয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এমপি রহমতউল্লাহর ভাগিনা ফারুকের লোকজন বেরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের লোকজনের উপর গুলি চালিয়েছে। তাদের গুলিতে আমার ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখু মারা গেছেন। আরেক ছোট ভাই বেরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় এ্যাপোলো হাসপাতালে রয়েছেন।

এমপি রহমতউল্লাহ তার ভাগিনাকে মহানগর আওয়ামী লীগের পদ দিতে চায়। ছেলে হেদায়েতউল্লাহকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর করতে চায় অভিযোগ করে জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, আমি যেন বাড্ডা এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতে না পারি সেজন্য তিনি অপরাজনীতি করছেন। এলাকাবাসী এটা মেনে নেবে না বলে তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনের উপর গুলি চালিয়েছে।

এ্যাপোলো হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাজির হোসেন, বাদল মিয়া, তাজ মোহাম্মদ, শরীফ হোসেন, মো. আজিম, আবদুল করিম ও তাজসহ অন্তত আটজন রয়েছেন বলে জানান জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, এমপি রহমতউল্লাহ পক্ষের লোকজন আমাকে এলাকায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাইছি।

এই বিষয়ে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতউল্লাহ বলেন, নামাজে ছিলাম বলে কারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে বা কেউ নিহত হয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করে বলতে পারছি না।

অবশ্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বড় ছেলে হেদায়েতউল্লাহকে বেরাইদের মানুষ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ সংঘর্ষে জড়াতে পারে। রহমতউল্লাহ জানান, তার ছেলে লন্ডন থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছে। বর্তমানে ব্যবসায়িক কাজে জাপানে রয়েছেন। বাড্ডা থানার এসআই অনয় চন্দ্র পাল জানান, সংঘর্ষের বিষয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/মিতু

Categories: রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.