রবিবার ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রবিবার

প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে আত্মহারা সোনারগাঁওয়ের সেঁজুতি

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠির জবাব পেয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সৈয়দা রওনক জাহান সেঁজুতি রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেছে। সারাদেশের মানুষ এখন তার নাম জানে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে মোগড়াপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি বিদ্যায়তনের গণিতের শিক্ষক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের কাছে এখনো রীতিমত অবিশ্বাস্য লাগছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সই করা চিঠিটি ২২ এপ্রিল সকাল এগারোটায় বড় নগর পোস্ট অফিস থেকে গ্রহণ করেন সেঁজুতির বাবা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সৈয়দা রওনক জাহান সেঁজুতি। সে সোনারগাঁর বড়নগর প্রমিজ চাইল্ড একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। মা সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নাজমা বেগম। বড় ভাই সৈয়দ রাসেল মাহমুদ পেশায় ডাক্তার ও ছোট ভাই সৈয়দ রাকিবুল ইসলাম এআইইউবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র।
সেঁজুতির দাদি জুলেখা খাতুন মারা যান ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর। সেঁজুতিকে অনেক আদর করতেন। দাদি জুলেখা খাতুন নাকের সঙ্গে প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাকের অনেক মিল রয়েছে বলে মনে করে সেঁজুতি। টিভিতে যখনই প্রধানমন্ত্রীকে দেখে, দাদুর কথা মনে পড়ে তার। দাদুর কথা মনে করেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে সে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, চিঠিটি লিখে সেঁজুতি আমাকে বলে আব্বু প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাবো কি করে। আমি বলি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকানায় পাঠালেই যাবে। তখন মেয়ে চিঠিটি পাঠানোর জন্য আমাকে দেয়। কিন্তু, আমি মনে করেছি প্রধানমন্ত্রী অনেক ব্যস্ত। তার কি এই বাচ্চা মানুষের চিঠি পড়ার সময় আছে। এই কথা চিন্তা করে কয়েকদিন চিঠিটি পকেটে রেখে দেই। কিন্ত, মেয়ে বাসায় এলেই জিজ্ঞাসা করে বাবা চিঠি পাঠাইছো কিনা? উত্তরে বলি না। এভাবে দুই তিন দিন ঘোরানোর পর মেয়ে একদিন কান্না করে দেয়। পরে সেই দিনই আমি চিঠিটি পোস্ট করি। চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে ফোন করে। জানায় আমার মেয়ের চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়েছেন এবং চিঠির একটি উত্তর দিয়ে চিঠি লিখেছেন। পরে আমার কাছ থেকে ঠিকানা চান। আমি মোবাইলে মেসেজ করে ঠিকানা পাঠাই। রবিবার সকাল এগারোটার দিকে স্কুলের ক্লাস শেষ করে বড় নগর পোস্ট অফিসের দিকে গেলে পোস্টমাস্টার বলেন, আপনার মেয়ের নামে একটি চিঠি এসেছে। আমি চিঠিটি গ্রহণ করি।
প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে আনন্দের বন্যা বইছে সেঁজুতির পরিবারে। সেঁজুতির বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠির জবাব পেয়ে আমার মেয়ে সেঁজুতি খুব খুশি। মা নাজমা বেগম বলেন, আমার মেয়ে তো এই চিঠি পেয়ে আত্মহারা! একটু পর পর প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখছে।
সেজুঁতি বলে প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে যেসব উপদেশ দিয়েছেন, আমি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। নিয়মিত স্কুলে যাবো, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবো। বাবা মায়ের কথা শুনবো। আমি পড়াশোনা করে অনেক বড় হয়ে শেখ হাসিনার মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হাতে চাই। দেশের মানুষের সেবা করতে চাই।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.