শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব তরুণদের

মো. জাভেদ হাকিম: আমি দেখিনি মুক্তিযুদ্ধ, শুনেছি গল্প বাবার মুখে। শৈশব থেকেই মুক্তি সংগ্রামের নানা কাহিনির সঙ্গে হয়েছি বেশ পরিচিত। পারিবারিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে শুনতে মনে হয়, পাকিস্তানি হানাদার আর এদেশীয় রাজাকারদের বর্বরতা-নিষ্ঠুরতা যেন আমি নিজ চোখেই দেখেছি। তাই তো মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেই শরীরের রক্ত টগবগিয়ে ওঠে।

মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। তাই কোথাও ঘুরতে গেলে সেসব অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জানতে ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখার বিশেষ আগ্রহ থাকে।

মুক্তিযুদ্ধ শব্দটার মাঝেই রয়েছে প্রতিবাদী হওয়ার অনুপ্রেরণা। অনেকেই ভাবেন ভ্রমণ মানেই হৈ-হুল্লোড়! কিন্তু ভ্রমণই হতে পারে এই প্রজন্মের সুশিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। তাই তরুণদের উচিত ভ্রমণকালে সেসব জায়গার মুক্তি সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস জানা। জানতে হবে যুদ্ধকালীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সম্পর্কে। সময়-সুযোগ করে সাক্ষাৎ করতে হবে ঘুরতে যাওয়া অঞ্চলের মুক্তিসেনা ও নির্যাতিত পরিবারগুলোর সঙ্গে। তবেই মিলবে দেশের স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ। তখন আর নবপ্রজন্মের মাঝে থাকবে না দেশটাকে তাচ্ছিল্য করার মানসিকতা।
জাতীয় পতাকা প্রজন্মের অবহেলায় মাটিতে লুটোপুটি খাবে না। মেধাসম্পন্ন হলেই দেশ ত্যাগের বাসনা জাগবে না। উন্নত রাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে দেশে না ফেরার হীনম্মন্যতায় ভুগবে না। শুধু পারিবারিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের গল্প না শোনার অভ্যাসের কারণে প্রতি বছর প্রতিভাধর ছাত্রগুলো স্বেচ্ছায় বিদেশ পাচার হয়ে যায়। দেশ নিয়ে তাদের তেমন আগ্রহ থাকে না।
ঘরে ঘরে যদি পারিবারিক বলয়ে শৈশব থেকেই পাকিস্তানি হানাদার আর রাজাকারদের অত্যাচারের কাহিনি, সোনার ছেলেদের মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার ইতিহাস, বিভিন্ন পরিবারের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতনের বর্ণনা শুনাতে অভ্যস্ত করে, তাহলে সেসব সন্তান কখনও দেশবিদ্বেষী হবে না, হতে পারে না। গুটিকয়েক বিপথগামী মানুষের জন্য কোনো ছাত্রছাত্রী পুরো জাতি বা দেশটাকে গালি দেবে না। জন্মভূমি নিয়ে কারও উন্মাদের মতো আচরণ করা ফেইসবুক স্ট্যাটাস অন্যরাও খোঁড়া যুক্তি হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করবে না। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস জানা আমাদের তারুণরা নিজেদের গড়ে তুলবে একটি টেকসই জাতি হিসেবে। তাদের মননে গেঁথে দিতে হবে মুক্তিযোদ্ধা বীরসেনারা পাকিস্তানি হানাদারদের কাছ থেকে দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে ঠিকই; কিন্তু স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/মিতু

Categories: খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.