বুধবার ৩০ কার্তিক, ১৪২৫ ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ বুধবার

ফেঁসে যাচ্ছেন মোর্শেদা!

সুভাষ সাহা: কোথা থেকে কী হলো? প্রধানমন্ত্রীর নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে ষড়যন্ত্রকারীদের মাথায় হাত! অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে রাতারাতি আরেকটি ‘পরিস্থিতি’ সামাল দেয়া সম্ভব হলো! *
ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন মোর্শেদা নিজেই ! এশা-মোর্শেদা একই সংগঠনের নেত্রী হয়েও মোর্শেদা কেন হঠাৎ বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন? ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য! বেগম সুফিয়া কামাল হল শাখার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানমের গোপনীয় তৎপরতা অনেক আগেই এশার নজরে পড়ে! কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর পর থেকেই মোর্শেদার নেতৃত্বে একটি গ্রুপের বাড়াবাড়ি নিয়ে ইফ্ফাত জাহান এশা ছিলেন চিন্তিত। এনিয়ে মোর্শেদাকে সতর্ক করার পরও তৎপরতা বন্ধ হয় নি!
গত ৯ এপ্রিল ‘সমঝোতার সিদ্ধান্ত’ প্রত্যাখ্যানকারীদের সঙ্গে যোগ দেন মোর্শেদাসহ কয়েকজন। এ নিয়ে ত্যাক্ত বিরক্ত এশা সহকর্মী মোর্শেদাকে বকাঝকা করেন। এসব কারনে মোর্শেদা সিনিয়র নেত্রী এশার উপর প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজতে থাকেন! ১০ এপ্রিল রাতে হলের বাইরে সমঝোতা প্রত্যাখ্যাননকারীরা যখন পরিস্থিতি উত্তাল করতে ব্যস্ত তখন আন্দোলনে অংশ নিতে আগ্রহী মোর্শেদার ৩ সহযোগীকে ঘরে আটকে এশা বকাঝকা করছিলেন,তখনই ক্ষুব্ধ মোর্শেদা এশার ঘরের দরজায় লাথি মেরে নিজের পা কাটেন। তারপরের ঘটনা সবার জানা!
*মোর্শেদা কার এজেন্ট?*
‘রগকটার গুজব’ ছড়ানোের নেপথ্যের অনেক তথ্য বের হয়ে আসছে! এসবে যোগ হয়েছে ‘তারেক রহমান- ড.মামুনের’ টেলিফোনিক কথোপকথন!  একদিকে সরকারের পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা! অপরদিকে ছাত্রলীগের একটি অংশের বৈরীতা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠে। অবশেষে কোটা বাতিলের ঘোষণায় আশঙ্কার অবসান!
*এশার ঘুরে দাঁড়ানো*
জরুরী তদন্তে সুফিয়া কামাল হল শাখার সভাপতি ইফ্ফাত জাহান এশা নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় এবং দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে এশার বিরুদ্ধে সকল শাস্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। শুধু তাই নয়- মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এশাকে সসম্মানে সুফিয়া কামাল হলে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে,খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের। একইসঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য,শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে প্রতিনায়িকা হয়ে উঠা মোর্শেদার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেয়া হচ্ছে বলে একই সূত্রে প্রকাশ।

Image result for ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে

*পেছনের কথা*
গত ৮ এপ্রিলে ঢাকার শাহবাগে কোটা সংস্কারের পক্ষে সাদামাটা বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত সেটি দেশের প্রায় সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামীগ সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের ৯ এপ্রিল আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা দেন। কিন্তু বেঁকে বসে আন্দোলনকারী একাংশ। এ অংশটি আরো শক্ত অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়!
এদিকে প্রতিমুহূর্তে গুজব,সন্দেহ ও আশঙ্কার ডালপালা বাড়তে থাকে! ১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঢাবি সুফিয়া কামাল হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা তার হলেরই এক ছাত্রী মোর্শেদা খানমের (একই হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি) পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন। এ রটনার পর পরিস্থিতি বিদ্যুতের মতো চমকাতে থাকে এবং পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠে।
অবিশ্বাস্য(!) রগকাটার প্রচারে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে সকল কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। তারপরই নিমিষে ষড়যন্ত্রকারীদের মাথায় হাত পড়ে!

Image may contain: 2 people, crowd and outdoor
*কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন ‘সরকার পতন’ আন্দোলনের পথে ! *
বিশ্লেষকদের মতে,বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার পর ‘কোটা সংস্কার’ আন্দোলন ছিল সরকার পতনের আরেকটি অন্যতম প্রয়াস!
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহী জওয়ানরা নৃশংসভাবে হত্যা করে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে।  আওয়ামীলীগের অভিযোগ; ২০০৯ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করে আওয়ামী ক্ষমতার মসনদে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই সংঘটিত বিদ্রোহটি ছিল আওয়ামীলীগ সরকারকে হঠানোর আরেকটি ষড়যন্ত্র! বিশ্লেষকদের মতে, বিডিআর বিদ্রোহ থেকে সৃষ্ট অস্থিরতাকে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চেয়েছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ! সদ্য ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের বিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসে। বিএনপিসহ অধিকাংশ দল সেই নির্বাচন বর্জন করে।
*ছারপোকার কামড়!*
‘ছারপোকা’ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে আছে!  সরকারের সচিব পদে ‘ছারপোকা’! ছাত্রলীগে ‘ছারপোকা’। ছদ্মবেশে ছড়িয়ে আছে ‘ছারপোকা’! এরা তো কামড়াবেই!
* ঘরে যখন শত্রু! *
শুভানুধ্যায়ীদের মতে,সরকারী দলের কতিপয় নিপীড়ক ‘সাংসদ,ছাত্রলীগ -যুবলীগ-আ’লীগ নেতাদের বেপরোয়া আচরণ বদলাতে হবে। রোগ গাড় হওয়ার আগে ওষুধ প্রয়োগ অনিবার্য কথাটি মনে রাখা ভাল। বিলম্বিত ওষুধ করুণ পরিণতি ডেকে আনে বলা বাহুল্য। সুযোগসন্ধানীরা সবসময় অপক্ষায় থাকবে এটাই স্বাভাবিক! কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি বুঝে ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল কৃতীত্ব প্রধানমন্ত্রীত্ব শেখ হাসিনার এটাই শেষকথা।
* এশার প্রতি নৃশংসতা! *
‘এশার বাড়াবাড়িকেও হার মানিয়েছে এশার গলায় জুতোর মালা পরানোর নৃশংসতা! এশাকে দল ও হল থেকে বহিস্কারের পর বিধিসম্মতভাবে এশার বিচার করা যেতো বলে নিন্দুকেরাও মনে করেন। এশার বকাঝকা আর মোর্শেদার পা কাটার ঘটনা দু’টি ভিন্ন মাত্রার অপরাধ! দু’টো বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ আছে কি না আইন বিশারদরা বিবেচনা করবেন।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: জাতীয়,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.