মঙ্গলবার ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২০ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

রথীশকে হত্যার আগে মেয়েকেও ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিলেন দীপা

নজরুল মৃধা: রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পিপি রথীশচন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনাকে হত্যার আগে শুধু তাকেই নয়, মেয়ে অরিত্রি ভৌমিককেও ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিলেন রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা। ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বাবা-মেয়ে দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর রথীশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। আর এ কাজে দীপাকে সহায়তা করেন তার প্রেমিক ও সহকর্মী তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল ইসলাম।
চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ মামলায় গ্রেপ্তার বাবুসোনার পেশাগত সহকারী মিলন মোহন্তকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দীপার দেওয়া তথ্যানুযায়ী নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির ঘরের মেঝে খুঁড়ে বাবুসোনার লাশ উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দীপা ছাড়া আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হচ্ছেনÑ দীপার প্রেমিক কামরুল ইসলাম, মোল্লাপাড়ার মো. রবিউল ইসলামের ছেলে সবুজ ইসলাম, রফিকুল ইসলামের ছেলে রোকনুজ্জামান এবং আইনজীবীর সহকারী মিলন মোহন্ত।
জানা গেছে, ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার কাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবুপাড়ার বাসায় ফেরেন বাবুসোনা। এরপর আনুমানিক রাত ১০টার দিকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাবুসোনাকে খাওয়ান স্ত্রী দীপা। অন্যদিকে তাদের একমাত্র মেয়ে অরিত্রিকেও খাবারের সঙ্গে তিনটি ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে থেকেই বাবুসোনার শয়নকক্ষের পাশে অবস্থান করছিলেন কামরুল ইসলাম। ওষুধ খাওয়ানোর পর বাবা-মেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর কামরুলের সহায়তায় বাবুসোনাকে হত্যা করেন দীপা। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অরিত্রি তার ফুফুর সঙ্গে রংপুরের বাইরে যান একটি বনভোজনে যোগ দিতে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, তার বাবা নিখোঁজ। বাবুসোনার একটিই ছেলে। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাবুসোনার ছোট ভাইও সেদিন সপরিবারে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে অরিত্রি ছাড়া কেউ ছিলেন না। এই সুযোগটিই নেন দীপা ও কামরুল ইসলাম।
বাবুসোনা নিখোঁজ জানিয়ে গত শনিবার রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এই জিডির সূত্রে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে র্যাব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বামীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে লাশ কোথায় আছে তা-ও ওই রাতেই র্যাবকে জানান দীপা। এরপর বাবুসোনার লাশ উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে দেওয়া তথ্যে দীপা জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি তদুপরি পরকীয়া এবং এ নিয়ে সন্দেহের কারণে দাম্পত্য জীবন বিষিয়ে উঠেছিল বলেই তিনি স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। দীপা তার সহকর্মী ও প্রেমিক স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলামের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে স্বামীকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন দুমাস আগে। বাবুসোনা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত রবিবার থানায় মামলা করেছিলেন তার ছোট ভাই সুবল ভৌমিক। কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া আমাদের সময়কে গতকাল বলেন, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত আমরা ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন এর বেশি বলা যাবে না।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/নিঃতঃ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.