শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

শিক্ষক নিবন্ধনের মেধাতালিকা প্রস্তুতসহ ৭ নির্দেশনা হাইকোর্টের

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় মেধাতালিকা করার নির্দেশ এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগ-জেলা-উপজেলা কোটা পদ্ধতি বাতিল করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের এই রায়ে সাতটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায় প্রদানকারী বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. মোহাম্মদ উল্লাহের স্বাক্ষরের পর ৪৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। পরে রায় প্রকাশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান। রায়ে উল্লেখিত সাতটি নির্দেশনা হলো-

১. নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ দিতে হবে। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদ বহাল থাকবে।

২. রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণদের নিয়ে একটি জাতীয় মেধাতালিকা করতে হবে। এই তালিকা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

৩. একটি জাতীয় মেধাতালিকা করতে হবে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা তালিকা নামে কোনও তালিকা করা যাবে না।

৪. এনটিআরসিএ প্রতিবছর মেধাতালিকা হালনাগাদ করবে।

৫. সম্মিলিত মেধাতালিকা অনুযায়ী রিট আবেদনকারী এবং অন্যান্য আবেদনকারীর নামে সনদ জারি করতে হবে।

৬. নিয়োগের উদ্দেশ্যে এনটিআরসিএ কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরাবর কোনও সুপারিশ করলে কপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং কমিটি বাতিল করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড; এবং

৭. বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণ করতে শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে সরকার।

এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় মেধাতালিকা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনদ দিতে বলা হয়েছে। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই সনদ বহাল থাকবে।

আদালতের এই রায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা-উপজেলা কোটা পদ্ধতি বাতিল করে বলা হয়, বিভাগ বা জেলা-উপজেলা মেধাতালিকা করা যাবে না। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নিয়োগের উদ্দেশ্যে কোনও সুপারিশ করলে তা ৬০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি বাতিল করবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে এ নির্দেশ দেন। নিবন্ধন সনদধারী বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার ব্যক্তির করা প্রায় দুই শতাধিক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে এ রায় দেওয়া হয়। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। এনটিআরসিএর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হাসান।

হাইকোর্ট গত বছরের ২৮ মে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের মেধাতালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এ সময়ের মধ্যে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্যপদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া কোটা পদ্ধতি বাতিলেও রুল জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আরও কয়েক হাজার ব্যক্তি একাধিক রিট আবেদন করেন। পরে আদালত রুল জারি করেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুলাই এনটিআরসিএ আদালতে একটি প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, পদ ও বিষয়ভিত্তিক ২২ হাজার ৫৬৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় সব রুলের ওপর শুনানি চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেওয়া হয়। সেই রায় মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/মিতু

Categories: আইন-আদালত

Leave A Reply

Your email address will not be published.