মঙ্গলবার ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২০ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

কোটা সংস্কার এবং কৃষককের জন্য কোটা চাই

সাইদুর: দেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারনে কোটার আবির্ভাব ঘটেছে। তবে এই কোটার দাপট সরকারী চাকুরীতেই বেশী। কোটা নামের এই অসম বৈষম্যটি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবে এটা এখন রাষ্ট্র ও সরকারকে ভাবা উচিৎ। কোটা পদ্ধতিটি আসলে চালু করা হয়, পিছিয়ে থাকা কোন জেলা অথবা কোন জনগোষ্ঠীকে সমতায় নিয়ে আসার জন্য। সমতা হয়ে গেলে কোটার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। এটা যুগের পর যুগ চলতে পারেনা। সরকারী, বেসরকারি চাকুরীতে কোটা সংস্কার এখন সময়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাবী। একটা অসম নীতিমালা রাষ্ট্র দীর্ঘদিন বহন করতে পারেনা এবং রাষ্ট্রের জন্য হিতকর হবেনা।
কোটা পদ্ধতি বিশ্বের সব দেশেই আছে । কোন দেশেই ১৫% বেশী কোটা নেই, তাও নিদিষ্ট সময়ের জন্য কোটা সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু আমাদের মতো To be continue —- প্রক্রিয়া কোন দেশেই নাই। একটা ি্োো িও গেছে অনিয়ম শব্দটা । মেধার মূল্যায়নে যদি রাষ্ট্র বা সরকার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সময়ে টানে মেধা শূন্য হবে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। একটা জাতির মেধাবী জনগোষ্ঠী হলো রাষ্ট্রের ভারহীন অমূল্য সম্পদ।
আমাদের দেশে দিনে দিনে শিক্ষার মানের কি উন্নতি হচ্ছে, পরীক্ষার সময়েই দেখা যায়। কিন্তু দিনে দিনে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা স্বীকার্য। কোটা সংস্কার বা বাতিলের দাবী অনেক আগের দাবী । বর্তমান সময়ে আর হার মানতে চায় না অথবা ন্যায্য অধিকারটা বুঝে নিতে চায় শিক্ষিত বেকাররা। রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতির জন্য রাষ্ট্রের মেধী ছাত্র/ ছাত্রীদের মেধার অপমৃত্যু হতে পারেনা। তাই রাষ্ট্র কোটাকে ঘষামাজা করাই ব্যাচটটটিেোোডপঞ্জনীয়।
রাষ্ট্র বা সরকার সমাজের প্রতিটি নাগরিককে সমান চোখে দেখবে এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব । তবে ব্যতিক্রম শব্দটা রাখার পক্ষে আমি। অনগ্রসমান কোন জাতি গোষ্ঠীকে নিদিষ্ট সময়ে জন্য কোটা সুবিধা দেওয়ার স্বপক্ষে। কিন্তু আমাদের দেশের কোটার অবস্হা গলায় গলায় ভরা। কোটা পদ্ধতি সংবিধান পরিপন্থী ব্যবস্থা । সংবিধানের ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে নারী ও উপজাতির জন্য কোটার কথা উল্লেখ আছে । বর্তমানে সরকারী চাকুরীতে ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। অথচ এ দেশে সবচেয়ে সংখ্যায় বেশী এবং সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী কৃষকদের সন্তানের জন্য কোন কোটা নাই। আবার বলি কৃষকরা দেশের চালিকা শক্তি । সরকারী চাকরীতে কোটা সংস্কারের মাধ্যমে কৃষককের সন্তানের জন্য কোটা চাই। যাক ঐ দিকে আর যেতে চাই না। তবে যে সব কোটা প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সে দিকে নজর দেই।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%
জেলা কোটা ১০%
নারী ১০%
উপজাতি ৫%
প্রতিবন্ধী ১%
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সন্মান রেখেই বলছি। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের পর অনেক সময় যোগ্য তো দূরের কথা, কোন প্রার্থীই খুঁজে পাওয়া যায়না। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তিও মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ ছিল। সুতারাং দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কোটা সংস্কার প্রযোজন । স্বাধীনের পর জেলা ছিল ১৯টি বর্তমানে জেলা ৬৪ টি । কয়টা সরকারী নিয়োগে ৬৪ টা লোকের নিয়োগ হয় ? সে জন্য জেলা কোটার প্রযোজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ ।
নারী জন্য সকল সরকারী চাকুরীতে কোটা ১০% আবার প্রাইমারী স্কুলে নিয়োগে নারী কোটা ৬০ % । এটা কোন ধরনের বৈষম্য ? মোট জনগোষ্ঠীর ১% হলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাঁদের জন্য কোটা ৫%।
এখানেও কোটা কাটছিট করা সম্বব।কোটাকে সংকোচিত করতে না পারলে
কোটাই হবে মেধাবীর জন্য মরণফাঁদ।
নিয়োগ পরীক্ষায় ৮০ পেয়েও কোটা বিহীন পরীক্ষার্থীরা উর্ত্তীণ হতে পারেনা কিন্তু কোটা সুবিধার জন্য ৫০ পেয়েও উর্ত্তীণ হয়ে যাচ্ছে। শুধু চাকরীর না, স্কুুল, কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও কোটা নামক অসমবৈষম্য সমন্বয় করা উচিৎ। ৫৬% যদি কোটার মাধ্যমে নিয়োগ পায় অন্যরা কোথায় যাবে ?
দেশে যেমন উচ্চ শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি উচ্চ হারে বেকারত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬- ২০১৭ সালের শ্রমশক্তির জরিপে দেখা গেছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার লোক কর্মক্ষম কিন্তু কর্মহীন । দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার । প্রতি বছর ৮০ থেকে ৯০ হাজার বেকার বৃদ্ধি পাচ্ছে । জরিপে বলা হয়েছে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশী ( ৪৭%) । তাদের মতে, বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন হচ্ছে না। যারফলে নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। জিডিপি সাথে কর্মসংস্থানের বিরাট ফারাক । তাই কোটা সংস্কারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন অতিজরুরী ।
সামনে একাদশ নির্বাচন । নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা একটা ভূমিকা রাখে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশী তরুণ ভোটার ভোট দিবে। সুতারাং ভোটের রাজনেতিতে কোটা সংস্কার একটা বড় ইস্যু হতে পারে। জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশকে আজ বিশ্ববাসী উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে স্বীকৃতি পেলেও কর্মসংস্থানের গতি কচ্ছপ গতি। কর্মসংস্থান আর কোটা সংস্কার দুইটায় একে অপরের পরিপূরক । জিডিপি আর উন্নয়নকে আরও টেকসই করতে হলে উচ্চ শিক্ষিত বেকারদেরকে কর্মসংস্থান দিতে হবে। নতুবা শিক্ষিত বেকাররা সমাজের বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে যাবে, বিনষ্ট হবে জাতির উজ্জল ভবিষৎ ।

 

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সাইদুর/মিতু

Categories: খোলা বাতায়ন,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.