বৃহস্পতিবার ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ বৃহস্পতিবার

সুন্দরবনে কাউকে দস্যুতা করতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সুন্দরবনে কাউকে দস্যুতা করতে দেয়া হবে না। শুধু সুন্দরবনই নয় গোটা বাংলাদেশের কোথাও কোন দস্যুতা করতে দেয়া হবে না। এখনও সুন্দরবনে যারা বিপথগামী হয়ে দস্যুতা বেছে নিয়েছে, তাদের বনদস্যুতা ছেড়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোন কোনো বনদস্যু-জলদস্যু, সন্ত্রাসী ও জঙ্গির ঠাঁই হবে না। তাদের সমূলে উপড়ে ফেলা হবে।

পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের উদ্যোশ্য করে বলেন, যেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করবেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এবারই প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে র‌্যাব নিয়োজিত থাকবে।

রবিবার বিকালে বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে সুন্দরবনের ৩টি বনদস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যারা এই কাজের সাথে যুক্ত তাদের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। সমাজে যারা এই কাজের সাথে জড়িত তারা যদি একাজ বন্ধ না করেন তবে মাদক ব্যবসায়ী, অর্থ লগ্নিকারী ও তাদের গডফাদারদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। তাদের পরিণাম কি হবে দেশবাসী তা অচিরেই দেখতে পাবেন বলেও হঁশিয়ারি করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, মাদকের কারণে আমাদের যুব সমাজকে কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। মাদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অচিরেই সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ২০টি বাহিনীর ২১৭ জন সদস্য এ পর্যন্ত আত্মসর্মাপণ করেছে। ৫৪৫ জন বনদস্যুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ১৩০ জন বনদস্যু বিভিন্ন সময়ে র‌্যাবের সাথে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে। মোটকথা সুন্দরবন থেকে ৮৯২ জন বনদস্যুকে আমরা তুলে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই কৃতিত্ব শুধু আমাদের নয় – এই কৃতিত্ব এই এলাকার জেলে-বাওয়ালীসহ সংবাদকর্মীদেরও। সুন্দরবনের বনদস্যুদের সমস্যা ৪০ বছরের। আমরা চাই খুব শিগগিরই সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করতে। সুন্দরবনে দস্যুতার কাজে এখনও ছোট, সাহেবআলী ও সাত্তার বাহিনী তৎপর রয়েছে। ওই ৩টি বনদস্যু বাহিনীর উদ্যেশে দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমরা দোকান খুলে নিয়ে বসে থাকব না। তারা যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাদের গ্রেফতার বা গোলাগুলিতে সুন্দরবন থেকে তাদের নির্মূল করার সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বছরের মধ্যে সুন্দরবনকে ক্লিন করতে চাই, বনদস্যু মুক্ত করতে চাই।

র‌্যাবের মহাপরিচালক জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান রেখে বেনজীর আহমেদ বলেন, আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা যেন হেনস্থা না হয়। তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন কর্মের মাধ্যমে পুনর্বাসন কাজে সহযোগিতার অনুরোধ জানান তিনি।

খুলনা র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক (সিইও) খন্দকার রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাগেরহাট-৩ আসনের এমপি তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট- ২ আসনের এমপি মীর শওকাত আলী বাদশা, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান, বিজিবি খুলনা সেক্টরের প্রধান ব্রিগেডিয়ার খালেক আল মামুন, র‌্যাব-৮ এর সিইও হাসান ইমন আল রাজীব, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় প্রমুখ।

আত্মসমর্পণকারী বাহিনী ৩টি হল জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী, ছোট সুমন বাহিনী ও মেহেদী হাসান ওরফে ডন বাহিনী। এ অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের ৩ বাহিনীর ২৭ বনদস্যু ২৮টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৮১ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৩টি একনলা বন্দুক, ৩টি বিদেশী দোনলা বন্দুক, ৪টি ২২ বোর বিদেশী রাইফলে, ৭টি পাইপগান, ১টি বিদেশী ওয়ান শ্যুটারগানসহ ২৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১ হাজার ৮১টি গোলাবারুদ জমা দেন। অনুষ্ঠানে গত ১৬ জানুয়ারি র‌্যাবের কাছে আত্মসর্মাপণকারী বড় ভাই বাহিনী, ভাই ভাই বাহিনী ও সুমন বাহিনীর ৩৮ সদস্যের হাতে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সরকারের অনুদান হিসেবে প্রত্যেক বন্যদস্যুকে ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট তুলে দেন।

আত্মসর্মাপণকরী বন্য দস্যুদের মধ্যে রয়েছে ডন বাহিনীর প্রধান মো. মেহেদী হাসান ডন (৩২), জয়দেব মন্ডল(৩৫), মো. খলিলুর রহমান(৪৫), মো. সাইফুল (২৯), মো. আবুল হোসেন ইসলাম(২৬), মো. আজিজুর ইসলাম(২৭), জয়ন্ত বিশ্বাস(৩০), মো. শাহজাহান(৪২), মো. আব্দুর রহমান শেখ (২৮), মো. মাহমুদুল হাসান(২৬), ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), মো. কবির সুলতান(৫৫), মো. মনিরুল শেখ(৩৩), মো. শহিদুল শেখ(৩২), মো. আব্দুস সালাম(৪৩), শেখ আল মামুন সোহেল রানা(২৯), মো. সেলিম মোল্যা(২৮), মো. ইদ্রিস ডালি(২৮), মো. মিঠু সরদার(৪০), ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান মো. সুমন হাওলাদার(২৪), মো. লুৎফর শেখ (৪০), মো. ভুট্টো বয়াতি(২৮), মো. আ. সামাদ মোল্যা (২৬), মো. রিয়াজ শেখ(২৮), মো. ইয়াসিন শেখ(২৯), মো. তরিকুল হাওলাদার(২৩) ও মো. সিদ্দিক হাওলাদার (৩৯)। আত্মসমর্পণকৃত এসব বনদস্যুদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।

বিষেরবাঁশী.কম/ সংবাদদাতা/ হীরা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,জাতীয়,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.