রবিবার ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ রবিবার

পোষা সাপের ছোবলে মৃত্যু, মর্গে চলল ঝাড়ফুঁক!

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: কথায় বলে, দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষতে নেই। এই প্রবাদবাক্যই অক্ষরে অক্ষরে সত্যি করে পালিত সাপের ছোবলে প্রাণ হারালেন মেদিনীপুরের রঞ্জন ঘোষ। পেশায় আলু ব্যবসায়ী হলেও নিজের বাড়িতে অবসর সময়ে কালীসাধনা করতেন রঞ্জনবাবু। তন্ত্র-মন্ত্রের নানাবিধ সরঞ্জাম তাঁর ঘরময় ছড়িয়ে রয়েছে৷ বাড়ির প্রবেশদ্বারেই কালীর বিশাল মূর্তি, পাশেই রাখা রয়েছে বেশ কয়েকটি কাঠের বাক্স৷ এই বাক্সগুলির মধ্যেই থাকে নানা জাতের বিষধর সাপ। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বাড়িতে তন্ত্রসাধনা করতেন রঞ্জনবাবু। আশপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে আসতেন অনেকেই। দক্ষিণা ৩১ টাকা।

জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সকালে প্রিয় পোষ্যদের নিয়মিত খাবার দিতেন রঞ্জনবাবু। এদিনও তাই করছিলেন। সকাল ৯টা নাগাদ খাঁচার দরজা খুলে খাবার দিতে গেলে একটি বিষধর কেউটে তাঁর হাতে তিনটি ছোবল দেয়। দ্রুত কোনওমতে খাঁচা বন্ধ করে পালিয়ে যান রঞ্জনবাবু। তারপর নিজের ঝাড়ফুঁক বিদ্যা দ্বারা সাপের বিষ শরীর থেকে বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে ফল না মেলায় নিজের এক গুরুকে ডাকেন। সেই ব্যক্তিও এসে মন্ত্র দিয়ে রঞ্জনবাবুর শরীর থেকে বিষ বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এর মধ্যেই বেশ কিছুটা সময় চলে গিয়েছিল।

বিষ শরীরময় ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন রঞ্জনবাবু। এর পর সম্বিৎ ফেরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের। রঞ্জনবাবুকে নিয়ে তাঁরা রওনা হন মেদিনীপুর হাসপাতালে। তবে হাসপতাল কোনওরকম প্রতিষেধক প্রয়োগ করার আগেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। যদিও চিকিৎসকদের কথায় ভরসা করতে পারেননি রঞ্জনবাবু পরিবারের লোকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে চাইলে তাঁরা বাধা দেন৷ সেখানেই এক মহিলা ঝাড়ফুঁক করতে শুরু করেন৷ সংবাদমাধ্যম ছবি তুলতে গেলে তাঁদের দিকেও তেড়ে আসেন পরিবারের লোকজন৷ তাঁরা হাসপাতালে বলেন যে দেহ ময়নাতদন্তের কোনও প্রয়োজন নেই, তাঁদের হাতেই দিয়ে দেওয়া হোক৷

বাড়ি ফিরে তাঁরা বাঁচিয়ে নেবেন রঞ্জনবাবু৷ বাধ্য হয়ে হাসপাতাল‌ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে রঞ্জনবাবুর দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। জানা গিয়েছে, মর্গের ভিতরেও এক ব্যক্তি রঞ্জনবাবুর দেহে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল দাস জানিয়েছেন এলাকায় ওঝা হিসেবে বেশ নামডাক ছিল রঞ্জনবাবুর৷ কোথাও সাপ বেরোলেই তিনি ধরে ফেলতেন৷ কিন্তু আজ কীভাবে কি হয়ে গেল, বোঝা যাচ্ছে না।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: চিত্র-বিচিত্র

Leave A Reply

Your email address will not be published.