বুধবার ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২১ নভেম্বর, ২০১৮ বুধবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রনাথ

বিশ্বজিৎ ঘোষ: পূর্ববাংলার পশ্চাৎপদ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষায় আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যার প্রাথমিক উদ্যোগ গৃহীত হয় ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর থেকেই। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শে পরিকল্পিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্যে ধন্য হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষার কালজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল সম্পর্কের কথা এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি লিট উপাধি প্রদান করেছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ উপস্থাপন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটো বক্তৃতা।
রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী ছিলেন বলে একটা কথা বেশ কিছুকাল ধরে বাংলাদেশে মুখে মুখে চলছে। কেউ কেউ কোনো প্রমাণ উপস্থিত না করেই লিখিতভাবে জানাচ্ছেন যে, ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ কলকাতায় গড়ের মাঠে রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে এক বিরাট জনসভা হয়। ও রকম একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বটে, কিন্তু তাতে রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি ছিল অসম্ভব, কেননা সেদিন তিনি কলকাতাতেই ছিলেন না। ১৯১২ সালের ১৯ মার্চ সিটি অব প্যারিস জাহাজযোগে রবীন্দ্রনাথের বিলাতযাত্রার কথা ছিল। তাঁর সফরসঙ্গী ডাক্তার দ্বিজেন্দ্রনাথ মিত্র জাহাজে উঠে পড়েছিলেন, কবির মালপত্রও তাতে তোলা হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু আকস্মিকভাবে ওইদিন সকালে রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মাদ্রাজ থেকে তাঁর মালপত্র ফিরিয়ে আনা হয়। কলকাতায় কয়েক দিন বিশ্রাম করে ২৪ মার্চ রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে চলে আসেন এবং ২৮ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে সেখানে বসে ১৮টি গান ও কবিতা রচনা করেন, যা পরে গীতিমাল্য (১৯১৪) গ্রন্থে সংকলিত হয়। গীতিমাল্য-এর ৪ সংখ্যক কবিতা ‘স্থিরনয়নে তাকিয়ে আছি’ যে শিলাইদহে ১৫ চৈত্র ১৩১৮ তারিখ (২৮ মার্চ ১৯১২) রচিত হয়, তা ওই গ্রন্থে কবিতাটির নিচেই লেখা আছে। উল্লেখযোগ্য যে, ইংরেজি গীতাঞ্জলির (১৯১২) সূচনাও হয় এ সময়ে।
এ প্রসঙ্গে আরও একটি কথা। ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা সফরে এসে যেভাবে প্রথমে ঢাকার নবাবের আতিথ্যলাভ করেন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধিত হন, তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিরোধিতা করে থাকলে তা সম্ভব হতো না বলেই মনে করি। আজ এক শতাব্দী পরে যে বিষয় আমাদের আলোড়িত করছে, মাত্র ১৪ বছরের ব্যবধানে সেকালের মানুষের স্মৃতি থেকে তা মুছে যায় কীভাবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকায় আসেন মোট দুবার—১৮৯৮ সালে প্রথমবার, আর দ্বিতীয়বার ১৯২৬ সালে। এ ছাড়া ১৯২৮ সালে তাঁকে আরেকবার ঢাকায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, কিন্তু ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে তিনি সেবার ঢাকায় আসতে পারেননি। একইভাবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেও তিনি আসতে সমর্থ হননি—তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে প্রদান করা হয় ডি লিট উপাধি।
দ্বিতীয়বার ঢাকায় আসার পর রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় আসেন ঢাকার জনগণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আমন্ত্রণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথকে আমন্ত্রণের ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন জগন্নাথ হলের তৎকালীন প্রাধ্যক্ষ ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার। তবে রবীন্দ্রনাথ কাদের আতিথেয়তায় থাকবেন—এ নিয়ে ঢাকার জনগণ ও রমেশচন্দ্র মজুমদারের মধ্যে মতান্তর দেখা দেয়। দলাদলি ও বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তা রবীন্দ্রনাথের কাছেও অগোচর থাকেনি। গোটা পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথ খানিকটা বিব্রত হয়ে ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ১৬ মাঘ রমেশচন্দ্র মজুমদারকে নিম্নোক্ত চিঠি লেখেন।
কল্যাণীয়েষু,
ঢাকার জনসাধারণের পক্ষ থেকে আজ আমাকে নিমন্ত্রণ করার জন্য দূত এসেছিলেন। তাঁদের বিশেষ অনুরোধে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই যাত্রা করতে প্রস্তুতি হয়েছি। ৬ই তারিখে রাত্রে রওনা হয়ে গোয়ালন্দ থেকে তাঁদেরই জলযানে ভেসে পড়ব। ১০ই তারিখ পর্যন্ত তাদের আতিথ্য ভোগ করে ওই কর্তব্য অন্তে তোমার আশ্রয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিমন্ত্রণ পালন করব। নইলে আমাকে দীর্ঘকাল ঢাকায় থাকতে হয়। আমার সময় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃস্থিত ঢাকার লোকের নিমন্ত্রণ কোনো মতেই উপেক্ষা করা উচিত বোধ করি নে। তাই দুই নিমন্ত্রণ ক্ষেত্রে আমার সময়কে বিভক্ত করে দিলুম। যে কয়দিন তোমাদের দেব স্থির করেছিলুম, সে কয়দিন সম্পূর্ণই রইল।
ইতি ১৬ই মাঘ ১৩৩২—
শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শেষ পর্যন্ত রমেশচন্দ্র মজুমদারের মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছানুযায়ী আতিথেয়তার ব্যবস্থা হয়। ঢাকার জনগণের বিভিন্ন সংবর্ধনা শেষে রবীন্দ্রনাথ ১০ ফেব্রুয়ারি রমেশচন্দ্র মজুমদারের বাড়িতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিথ্য গ্রহণ করেন। Dacca University Students Union-এর ব্যবস্থাপনায় এ সময় রবীন্দ্রনাথ কার্জন হলে দুটো বক্তৃতা প্রদান করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি উপস্থাপন করেন প্রথম বক্তৃতা: ‘The Big and the Complex’।
কার্জন হলে উভয় দিনেই রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর জি এইচ ল্যাংলি। সভার প্রারম্ভে সমবেত সুধীদের কাছে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় দিতে গিয়ে উপাচার্য বলেন: ‘এটা আমাদের পক্ষে আজ একটা পরম সুযোগ যে, এই সন্ধ্যায় পৃথিবীর একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পী সম্বন্ধে আমাদের কাছে কিছু বলবেন।’ ওই সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ দীর্ঘ ভাষণ উপস্থাপন করেন। তাঁর ভাষণের মূল কথা ছিল:
শিল্প-সৃষ্টি বিষয় ও ভাবের আবেগময় বিবরণ বা নিবেদন। তাই এটা কখনোই ক্যামেরায় তোলা ফটোর মতো নয়। শিল্পী খুবই ভাবপ্রবণ এবং তাঁর এই প্রবণতা বিষয় নির্বাচনের রুচি-বাগীশতাতেই নয়, তাঁর শিল্পের প্রত্যেকটি বিস্তৃত ব্যাপারেও।…আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে বাস করেন। শিল্পীও তেমনি নিজেকে মেলে ধরেন তাঁর শিল্পের মাঝে। শিল্পীর শিল্পাদর্শ নিছক বিলাস বা কল্পনা-উদ্ভূত নয়, তা পরম বাস্তব।
কার্জন হলে রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বক্তৃতার বিষয় ছিল: ‘The Big and the Complex’ তবে প্রকাশের সময়ে তিনি বক্তৃতার নতুন নাম দেন ‘The Rule of the Giant’। দ্বিতীয় বক্তৃতায় আধুনিক সভ্যতার বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর মৌলিক কিছু পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন। বিশ্বযুদ্ধোত্তর মানবসভ্যতার ভয়াবহ সংকটই রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতার মূল উপজীব্য। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিশীলতাই হচ্ছে শিল্পীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ উপায়। সৃষ্টিশীল সত্তাই একজন শিল্পীকে সমকালীন ধস থেকে রক্ষা করতে পারে। রবীন্দ্রনাথ লক্ষ করেছেন, যারা শক্তিশালী তারাই আজ পৃথিবীকে ধ্বংস করার মরণনেশায় মেতে উঠেছে। সামূহিক এই ধস ও ধ্বংস থেকে মুক্তির লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শুভবোধসম্পন্ন মানবগোষ্ঠীর কাছে তাঁর বিনম্র আবেদন উপস্থাপন করে বক্তৃতার সমাপ্তি টানেন।
কার্জন হল ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ একাধিক হলের সংবর্ধনায় বক্তৃতা দেন। ১০ ফেব্রুয়ারি অপরাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে (বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথকে সংবর্ধনা জানান। সংবর্ধনা সভায় হলের ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন। মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সংবর্ধনায় রবীন্দ্রনাথ বিশেষভাবে অভিভূত হয়ে পড়েন। সংবর্ধনার উত্তরে তাই তিনি প্রথমেই বলেন, ‘এই সভাগৃহে প্রবেশ করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার ওপর পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। প্রাচীন শাস্ত্রে পড়েছি কৃতী ব্যক্তির উপর পুষ্পবৃষ্টি হয়। এ পুষ্পবৃষ্টি যদি তারই প্রমাণ করে তবে আমি আজ আনন্দিত।’ অভিভাষণের শেষে কবি বলেন, ‘ঈশ্বর এক, তাঁর মধ্যে কোনো ভেদ নাই। যিনি সকল বর্ণের, সকল জাতির জন্য নিত্য, তার গভীর প্রয়োজন প্রকাশ করছেন।
আগের দিন রাতে রবীন্দ্রনাথ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে ১১ ও ১২ তারিখের তাঁর সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়। তাই ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কার্জন হলে বক্তৃতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হলে রবীন্দ্রনাথের হাতে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দনপত্রটি অর্পণ করা হয়। এ-সম্বন্ধে ১৯২৬ সালের বাসন্তিকা (জগন্নাথ হল বার্ষিকী) পত্রিকায় লেখা হয়:
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সংবর্ধনার জন্য, হল ইউনিয়ন বিপুল আয়োজন করিয়াছিলেন। কবি হঠাৎ অসুস্থ হইয়া পড়ায় সংবর্ধনা হইতে পারে নাই। কার্জন হলে আমাদের হলের পক্ষ হইতে কবিকে একটি অভিনন্দনপত্র দেওয়া হয়। অভিনন্দনপত্র মূল্যবান বস্ত্রে মুদ্রিত ও রৌপ্যখচিত হয়ে ভেলভেট নির্মিত একটি সুদৃশ্য আধারে কবিকে উপহূত হয়। কবি ইহার কারুকার্যে অতীব প্রীত হইয়াছিলেন।
কার্জন হলে কবির হাতে সংবর্ধনাপত্রটি দেওয়ার সময় জগন্নাথ হলের ছাত্ররা হল বার্ষিকী বাসন্তিকার জন্য কবির কাছে একটি কবিতার জন্য অনুরোধ করেন। ছাত্রদের অনুরোধে বাসন্তিকা পত্রিকার জন্য ‘বাসন্তিকা’ শিরোনামে রবীন্দ্রনাথ নিম্নোক্ত গীতিকবিতা রচনা করে হল প্রাধ্যক্ষ ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদারের কাছে পরবর্তী সময়ে প্রদান করেন:
এই কথাটি মনে রেখো,
তোমাদের এই হাসি খেলায়
আমি যে গান গেয়েছিলেম
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।
শুকনো ঘাসে শূন্য বলে, আপন মনে.
আদরে অবহেলায়
আমি যে গান গেয়েছিলাম
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়/…
শিক্ষার্থীদের অনুরোধে উপর্যুক্ত গীতিকবিতাটি রবীন্দ্রনাথ লিখে দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা সে সময় বাসন্তিকা পত্রিকায় মুদ্রিত হয়নি। মূল পাণ্ডুলিপিটি দীর্ঘকাল ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদারের কাছে রক্ষিত ছিল। কবিতাটি বাসন্তিকা পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯৮১ সালে, পত্রিকার রজতজয়ন্তী সংখ্যায়।
হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা হলের সংবর্ধনা সভায়ও যোগ দিতে পারেননি। ঢাকা হল সমিতি কবির উদ্দেশে যে সংবর্ধনাপত্র রচনা করে, তার অংশবিশেষ ছিল নিম্নরূপ:
নিখিলের প্রাণময়! পূরবের দীপ্তিমান রবি
বাঙালার চিরপ্রিয়তম।
ভারতের দীক্ষাগুরু। সত্যাশিবসুন্দরের কবি।
হে বিচিত্র। নমো নমো নমঃ।
১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার উপাধি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৩৬ সালের ২৯ জুলাই এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে এই উপাধি প্রদানের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতার কারণে রবীন্দ্রনাথ সমাবর্তনে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিশেষ সমাবর্তনে এই উপাধি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ওই সমাবর্তনেই স্যার আবদুর রহিম, স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, স্যার যদুনাথ সরকার, স্যার মুহাম্মদ ইকবাল এবং কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও সম্মানসূচক ডি লিট, উপাধি প্রদান করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এ বিষয়ে কৌতূহলী গবেষক আরও তথ্য আবিষ্কার করতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দুটি বক্তৃতা উপস্থাপন করেন, বিষয়গৌরবে তা অতি উঁচুমানের। রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি রচনার প্রায় সবকিছু বাংলায় অনূদিত হলেও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত বক্তৃতাদ্বয় আমাদের জানামতে, এখনো বাংলায় অনূদিত হয়নি। এ সম্পর্কে বিশদ কোনো আলোচনাও কোথাও দৃষ্ট হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ও গৌরব অনুসন্ধানে উপর্যুক্ত তথ্য নিঃসন্দেহে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।সূত্রঃ প্রথমআলো

Categories: সাহিত্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.