শুক্রবার ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের স্বীকৃতি সংবিধানে থাকা উচিৎ

বিষেরবাঁশী.কম ডেস্ক: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিপ্রদান ও তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিতাড়নের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময় করে জনমত গঠনের লক্ষ্যে গতকাল ঢাকার প্রেস কাউন্সিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক পরিষদের (বিএসপিপি) সাথে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপরোক্ত দু’টি দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধার আহ্বায়ক লেখক গবেষক আবীর আহাদ বলেন, সুদুর অতীতকাল থেকে বহু সংগ্রামের অনিবার্য পরিণতি হিশেবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একাত্তরে এক সর্বাত্মক রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু সেই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা শব্দদ্বয় আমাদের জাতীয় সংবিধানে স্থান না পাওয়ায় কালের পরিক্রমায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা শব্দদ্বয় তার আবেদন হারিয়ে ফেলছে। ফলশ্রুতিতে আজ অনেকের কাছেই মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেছে গন্ডগোলের বছর, কেউ বলেন ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ আর কেউ বলেন ভারতÑপাকিস্তান যুদ্ধ।

মুক্তিযোদ্ধা আবীর আহাদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা শব্দ সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিতর্কিত হওয়ার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদেরও মর্যাদাহানি ঘটেছে। মুক্তিযোদ্ধা নামের আইনি সুরক্ষা না থাকার ফলে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কহীন ব্যক্তি, এমনকি স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকাররাও যখন তখন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সজ্ঞা এড়িয়ে বিভিন্ন সরকার ইচ্ছামত প্রজ্ঞাপন জারি করে যাকে-তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে আসছে। আজ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা প্রায় সমান সমান। এটা মুক্তিযুদ্ধের জাতির জন্য কলঙ্ক। আবীর আহাদ তাদের এ আন্দোলনে সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক পরিষদের সার্বিক সর্মথন প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশ সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক পরিষদের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সাংবাদিক-লেখক রিন্টু আনোয়ার একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধার দাবীর প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি জাতীয় সংবিধানে থাকা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় আমাদের জাতীয় গর্বের স্থানটি নড়বড়ে হয়ে যাবে। তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মহামানব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাথে মুক্তিযোদ্ধারা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পিত স্বাধীন বাংলাদেশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ভুলন্ঠিত হচ্ছে। ভুয়ারা বাংগালি জাতির কলঙ্ক। তাঁদের সংগঠন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের অভিযাত্রাকে সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানায় এবং তাদের র্কমকান্ডের ব্যাপক প্রচারের অংশীদার হতে চায়।

মতবিনিময় সভায় একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে অংশগ্রহণ করেন সদস্য সচিব আবুল বাশার, রুস্তম আলী মোল্লা, আজিজউদ্দিন আহমদ, তৌসিফুল বারী খান, জুলকারনাইন ডালিম, মতিউর রহমান (সেনা), মওদুদ আলম বেগ, মতিউর রহমান, কাজী সোয়েব রানা, সরদার নাজিউদ্দিন গেরিলা, আব্দুস সামাদ তালুকদার, শম্ভুনাথ দাশ, আমির আলী, ইমরুল চৌধুরী, আবদুল গফুর, কালিরঞ্জন বর্মণ, দিলীপ কুমার রায়, কামাল হোসেন, মুন্না বেগ প্রমূখ।

অপরদিকে বাংলাদেশ সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক পরিষদের পক্ষে অংশ নেন পরিষদের মহাসচিব আলী আকবর, রফিকুল ইসলাম, মকসুদুর রহমান মানিক, মঞ্জুর কাদের মোহন, খোন্দকার আব্দুল মান্নান বাবু, রফিকুল ইসলাম কাজল, মহিউদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।

 

 

Categories: Uncategorized

Leave A Reply

Your email address will not be published.