মঙ্গলবার ২৯ কার্তিক, ১৪২৫ ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

সন্দেহের আঙ্গুল নিহত সুজাতের ভাগ্নের দিকে

বিষেরবাঁশী.কম: রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে গারো সম্প্রদায়ের বেছেথ চিরান (৬৫) ও তার মেয়ে সুজাত চিরান (৪০) হত্যার পিছনে পুলিশের সন্দেহের আঙ্গুল সুজাতার ভাগ্নে সঞ্জীব চিরান ও তার তিন বন্ধুর দিকে। হত্যার দিন মঙ্গলবার বিকাল ৪ টার দিকে সঞ্জীব ও তার তিন বন্ধুসহ কালাচাঁদপুরের ক-২৫ নম্বর বাড়ির চার তলায় বাসায় প্রবেশ করে। প্রবেশের দুই ঘন্টা পর তারা বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তারা বের হওয়ার পর সুজাতের মেয়ের স্বামী পিলেস্তার ওই বাসায় গিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়া দেখতে পান। দরজা খুলেই ঘরে লাশ পড়ে ছিল। এ ঘটনায় গতকাল সুজাতের স্বামী আশীষ মানখিন বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সঞ্জীব চিরান ও তার তিন বন্ধুকে আসামী করা হয়েছে।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একাধিক ব্যক্তি এই হত্যাকান্ডে জড়িত বলে আমরা ধারনা করছি। তিনি আরো বলেন, বাড়ির নিচতলায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিকাল চারটার দিকে সুজাতের বোনের ছেলে সঞ্জীব তিন ব্যক্তিসহ বাসায় এসেছিলেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর তারা বেরিয়ে যায়। এরপর সুজাতের বড় মেয়ে মায়াবীর স্বামী পিলেস্তা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ওই বাসায় আসেন। সে সময় তিনি দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে তিনি সুজাত ও তার মা বেছেথ চিরানের মরদেহ দেখতে পান।
গতকাল সুজাতের স্বামী আশীষ মানখিন বলেন, সুজাতের বড় বোনের ছেলে সঞ্জীব চিরানের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার মরিয়মনগর গ্রামে। বেকার যুবক তার খালার কাছ থেকে টাকা পয়সা দাবি করছিল। এটা থেকেই হয়তো সঞ্জীব এই খুনের ঘটনা ঘটাতে পারে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ সমাহিত করার জন্য ময়মনসিংহের হালুঘাটের জয়রামপুর চন্দ্রাঘাট গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সুজাত চিরানের মেয়ে মায়াবী চিরান বলেন, আমার মা ও নানীর খুনী যারাই হোক, তাকে গ্রেফতার করা হোক। আমরা ধারণা করছি এই খুনের পিছনে আমার বড় খালার ছেলে সঞ্জীব জড়িত থাকতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক প্রদীপ কুমার বিশ^াস বলেন, সুজাতা চিরানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ১৪ টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা গেছেন। তার মা বেছেথ চিরানকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার সিরাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশের একটি বিশেষ টিম হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। আসামী সঞ্জীবকে আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছে।

বিষেরবাঁশী.কম/ সংবাদদাতা/ হীরা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.