বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ উন্নয়নে ৭ দফা দাবী বাস্তবায়ন করতে হবে

মানিক চন্দ্র সরকার: ওঁ নমো ভগবতে পরশুরামায় নমঃ-আপনারা জানেন বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় তীর্থক্ষেত্র মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ। প্রতি বছর অষ্টমী স্নানোৎসব উপলক্ষে নারায়নগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে দেশ ও বিদেশের লাখো পূন্যার্থীর অংশগ্রহনে এক মহামিলন মেলার সৃষ্টি হয়। গত ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ শুক্রবার সকালে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের স্নানোৎসবে এসে পদদলতি হয়ে ১০জন পূন্যার্থীর মৃত্যু ঘটে। তৎপর কি কারনে এই ১০ পূন্যার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তার প্রধান কয়েকটি কারন বের করে তা সমাধান কল্পে স্থানীয় সংসদসদস্যের পরামর্শে জেলা প্রশাসন তা প্রস্তাব আকারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশেরে প্রধান জাতীয় তীর্থক্ষেত্র মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নে সারে তিনশত কোটি টাকা (প্রস্তাবিত অর্থ) বরাদ্ধ দানের ঘোষনা দেন এবং ঘোষনা মোতাবেক বর্তমানে একশ বিশ কোটি টাকা একনেকে অনুমতি দেন। তারই ফলস্রোতীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিরলস চেষ্টায় বর্তমানে তা বাস্থবায়নে নানাবিধ কার্যক্রম চলছে। ইতি পূর্বে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ উন্নয়নে বেশকিছু প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছিলাম তাতে ওয়েবসাইট ব্যতীত জেলা প্রশাসনের প্রেরিত প্রস্তাবে কয়েকটি প্রস্তাব সংযুক্ত হয়েছে। তাই সে সমস্ত কার্যক্রম বাস্থবায়নের পাশাপাশি বাস্তবতার নিরিখে সারাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ উন্নয়নে আরো ৭ দফা দাবী তুলেধরছি।

দাবীসমূহ:

১.মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের স্রষ্টা বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার ভগবান পরশুরামের স্মৃতিরক্ষাত্রে বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় র্তীথক্ষেত্রকে দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে দর্শণীয় স্থান হিসেবে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করতে শ্রী শ্রী পরশুরাম মডেল বিগ্রহ মন্দির ও মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ সম্পর্কিত বৈদিক দর্শনকে প্রচার ও পর্যটকদের আকর্ষন বাড়াতে বৈদিক জাদুঘর ও প্লানেটরিয়াম করতে হবে।

২. মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দকে বৈদিক পর্যটননগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ধর্মীয়ভাব গাম্ভীর্যের আলোকে তীর্থের পবিত্রতা বজায় থাকে সে বিষয়ে হিন্দুধর্মীয় গবেষকদের মতামতের নিরিখে গড়ে তুলতে হবে।
৩. মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের পবিত্রতা রক্ষাকল্পে তথায় অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র নদকে স্থায়ী ভাবে দূষণমুক্ত করতে হবে।
৪. মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের ভূমি রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ভূমিরক্ষা সেল গঠন ও জাতীয় তীর্থক্ষেত্রের পূর্নাঙ্গরূপ বাস্থবায়নে তীর্থে অবস্থিত মঠ মন্দির সংস্কার ও পূননির্মাণসহ প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহন করে ভূমি মালিক ও সেবাইতদের ক্ষতিপূরন দিতে হবে।

৫. সাধুসন্তো, হিন্দু নেতৃবৃন্দ, মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ সেবাক্যাম্প প্রতিনিধি , তীর্থ গবেষকদের সমন্বয়ে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের উন্নয়ন কমিটি গঠন করতে হবে।

৬. মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের উন্নয়ন প্রকল্প রামুর মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা যথা সময়ে বাস্থবায়ন করতে হবে।

৭. বিশ্বব্যাপী নারায়নগঞ্জের মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ নামটিকে আরো সমাদ্রিত করতে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ পরশুরাম বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ শুধুমাত্র একদিনের জন্য নয় সারা বছর যাতে এই পবিত্র তীর্থস্থানটি দর্শনের ইচ্ছা বিশ্বের পর্যটন পিপাষু ও তীর্থযাত্রীদের মনকে আকর্ষণ করে সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দকে গড়ে তুলতে হবে। উপরোক্ত দাবী গুলো বাস্থবায়িত হলে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ পাবে তার আসল রূপ আর এতেই আমাদের সকলের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

লেখক: সেক্রেটারী জেনারেল

হিন্দু হেরিটেজ ফাউন্ডেশন

মোবাইল:০১৭২৯৪৯৮৫০৬,০১৯১৮৯৩৭৬৯০

ইমেল: manikhosiery@gmail.com,manikchandrasarkar@ymail.com

Categories: খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.