রবিবার ৭ কার্তিক, ১৪২৪ ২২ অক্টোবর, ২০১৭ রবিবার

শামীম-হাই-আইভীকে খুশি করে নয়, তৃণমূলকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে জেলা আ.লীগ

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ আওয়ামলীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে শামীম ওসমান, হাই কিংবা আইভী কারোর মতামতকে প্রাধান্য দিবে না কেন্দ্র। এবার পূর্নাঙ্গ কমিটি হবে আওয়ামীলীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে। ফলে যারা বলেছেন, পুর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য শামীম ওসমান, হাই কিংবা আইভীর মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর হবে তারা মুলত অজ্ঞতারই পরিচয় দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামলীগের হাইকমান্ড এখন তৃনমূলকেই বেশী প্রাধান্য দিচ্ছে কারন, এরাই টিকিয়ে রাখছে দলকে। বলা চলে আওয়ামীলীগের প্রাণই হলো তৃনমূলের শক্তি।কেন্দ্রিয় একজন নেতা জানান, মূলত আওয়ামীলীগ নেতা নির্ভর নয়। সব সময়ই কর্মীদের শক্তি দিয়ে দল চলেছে। যার প্রমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি নেতার চাইতে কর্মীদের বেশী ভালোবাসতেন প্রাধান্য দিতেন। এজন্য কেন্দ্রিয় নেতা তোফায়েল আহমেদ সহ অন্যন্যরা এখনো বলে বেড়ান আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মী।

সূত্র জানায়, দিন যতই ঘনিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচনের ডামাঢোল ততই বেশী বাজছে। নির্বাচনের সময় নেতার চাইতে কর্মীরা দলের জন্য কাজ করে । তাই তৃনমূলের কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এবার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি হবে।এক দুই বছর নয় দীর্ঘ ১৪বছর ৬ মাস ১২দিন পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামলীগের নতুন কমিটির অংশিক ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে। আওয়ামীলীগের ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে নতুন কমিটির নাম ঘোষিত হয়। ওই কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল(ভিপি বাদল) এবং সহ সভাপতি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর নাম ঘোষনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৭১ সদস্যের পুনাঙ্গ কমিটি এদের নির্দেশনা মোতাবেক ঘোষিত হবে এমনটাই কথা ছিলো। কিন্তু দিন মাস পার হয়ে যায় এদের মতামত আর সহমতে পৌছেনি। তাই এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি হয়নি। একদিকে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব অন্যদিকে তৃনমূলকে অবহেলার বিষয়টি নজরে আসে হাইকমান্ডের। তবে এক বছর দেরি হলেও এবার ঘোষনা হতে যাচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির। জেলার র্শীষ নেতারা জানান, অপেক্ষার পালা এবার শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। সব কিছু প্রস্তুত আছে। যে কোন সময় কমিটির ঘোষনা হবে। তবে এই কমিটি জেলার প্রভাবশালী কারো হস্তক্ষেপ থাকছে না। শামীম, হাই কিংবা আইভীকে খুশি করে কোন কমিটি জননেত্রী শেখ হাসিনা দিবেন না। তিনি দলের স্বার্থে তৃণমূলকে মূল্যায়ন করেই কমিটি ঘোষনা দিবেন। জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওইসময় নাজমা রহমান সভাপতি ও শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগ চলে আসলেও দুই গ্রুপের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। ২০০১ সালে ১অক্টোবর নির্বাচনে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর দেশ ত্যাগ করেন শামীম ওসমান। তার অনুপস্থিতি ২০০২সালের মার্চ মাসে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঐ সম্মেলন নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পন্ড হয়ে যায়। সে সময় আওয়ামীলীগের অনেক কেন্দ্রিয় নেতা মঞ্চ ত্যাগ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে চলে যান। এদিনই ভেন্যু পরিবর্তন করে ২০০২ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটিতে এস এম আকরামকে আহবায়ক এবং মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। তাদের নেতৃত্বে দীর্ঘ দিন ধরে চলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। ওই আহবায়ক কমিটির ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও সাড়ে ১৪ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তবে এস এম আকরাম এবং মফিজুল ইসলামের মধে দ্বন্ধের কারনে নেতাকর্মীরাও ছিল বিভক্তিতে। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মফিজুল ইসলাম চলে যান না ফেরার দেশে। এরপর থেকে জেলা আওয়ামী লীগ মূলত নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে। ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে সাবেক এমপি এসএম আকরাম যোগ দেন নাগরিক ঐক্যে। এরপর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধ দেখা দেয়। যা পরবর্তীতে ত্বকী হত্যাকান্ড নিয়ে উত্তাপ ছড়ায়। তবে মেয়র আইভী রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ায় এবং ওসমান পরিবারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষেই অবস্থান নেয় মেয়র আইভীপন্থী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে যাচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগ তা মাথায় রেখেই কমিটি ঘোষনা করবে, এমনটাই মতামত জেলার একাধীক র্শীষ নেতাদের।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.