সোমবার ৬ ভাদ্র, ১৪২৪ ২১ আগস্ট, ২০১৭ সোমবার

ভারতীয় গরু চিন্তা বাড়াচ্ছে খামারিদের

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: কোরবানি উপলক্ষে নওগাঁয় প্রায় ৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ভারত থেকে গরু আশায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা। পরপর কয়েকবার ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের কারণে খামারি ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছিল। তারপরও তারা হাল ছাড়েনি। গতবার ভালো দাম পাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর পরিচর্যায় সময় ব্যয় করছেন। কিন্তু ভারত থেকে পশু আমদানি হওয়ায় এ বছরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

বেকারত্বের অভিশাপ ঘোঁচাতে, আবার কেউ সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে গড়ে তুলেছেন খামার। কোরবানিতে দেশি জাতের ও শংকর গরুর চাহিদা থাকে বেশি। ফলে খামারিরা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন পালন করতে গিয়ে খামারি ও কৃষকদের খরচ বেশি হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ খামারিদের গো-চারণ ভূমি না থাকায় সবকিছু কিনে খাওয়ানোর উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু কোরবানি সামনে রেখে পশুখাদ্যের দামও বেড়েছে বাজারে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৪৫৬টি খামারে পশু মোটাতাজাকরণের লক্ষ্যে ১৪ হাজার ৯৫১ জন খামারি রয়েছেন। এবার ঈদে জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারটি। হৃষ্টপুষ্ট করে প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫১টি পশু কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৭১ হাজার ৯৩২টি, বলদ ৩৩ হাজার ৯৫টি, গাভী ৩৬ হাজার ৯৮০টি, ছাগল ৯৩ হাজার ৫৯৯টি, ভেড়া ৩৪ হাজার ৩৯৮টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ৪৬৭টি।

নওগাঁ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা উত্তোম কুমার দাস বলেন, পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার পর্যায়ে সারা বছরব্যাপী একটা কর্মসূচি। তবে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এর কার্যক্রম আরো জোরদার হয়েছে এবং খামারিদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা আরো বৃদ্ধি পায়। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫১ পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাকিগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: জাতীয়,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.